বাদামের যত গুনাগুন

হার্ট সুস্থ রাখতে বাদামের কোন বিকল্প নেই। বাদামে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং মিনারেল থাকে। যা হার্ট অ্যাটাক এবং হৃদযন্ত্রজনিত অন্যান্য সমস্যা কমিয়ে দেয়

বাদাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বাদাম ত্বকের তারুণ্যতা ধরে রেখে ত্বকের উজ্জ্বল বাড়ায়। এটি দেহকোষ বাড়তেও সাহায্য করে। বাদামে প্রচুর প্রোটিন থাকে। দেহকোষের বাড়াতে প্রোটিন সাহায্য করে।

শিশুদের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাদামের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর মধ্যে দুধের গুণাগুণও বিদ্যমান থাকে । প্রতিদিন বাদাম খেলে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরেরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী হয়।

সব ধরনের বাদামই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন ৩০ গ্রাম বা এক আউন্স বাদাম। পরিমাণটা মোটামুটিভাবে এক মুঠ।

কাঠবাদামে স্নেহ পদার্থের পরিমাণ পেস্তাবাদামের তুলনায় বেশি, পেস্তাবাদামে আবার শর্করার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

আখরোটে কাঠবাদাম-পেস্তা বাদামের চেয়ে স্নেহ পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই ক্যালরিও পাওয়া যায় বেশি । হৃৎপিণ্ডের সুস্থতার পাশাপাশি মস্তিস্কের জন্যও এটি ভালো, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। মস্তিস্ক ও বুদ্ধিমত্তা বিকাশের সময়টাতে প্রতিদিন ২০-২৫ গ্রাম পরিমাণ আখরোট খাওয়া ভালো।

কাজুবাদামে তুলনামূলকভাবে শর্করার পরিমাণ বেশি, আমিষ ও স্নেহের পরিমাণ কম

চিনাবাদামে শর্করা ও আমিষ তুলনামূলকভাবে কম, এতে বেশি থাকে স্নেহজাতীয় উপাদান। তাই অতিরিক্ত পরিমাণে চিনাবাদাম খাওয়া ঠিক নয়, ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে।

পেঁপে হতে পারে ক্যান্সারের প্রতিষেধক

একটি ফল যা মানুষ কাচা তথা সবুজ অবস্থায় সব্জি হিসেবে এবং পাকা অবস্থায় ফল হিসাবে খেয়ে থাকে। এর অনেক ভেষজ গুনাগুন রয়েছে।

পাতা ও অপক্ক ফল তরুক্ষীর সমৃদ্ধ। এই তরুক্ষীরে প্রচুর পরিমাণে হজমকারী এনজাইম প্যাপাইন বিদ্যমান। পাতায় অ্যালকালয়েড, গ্লুকোসাইড এবং ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন আছে।

পাকা পেঁপে অর্শরোগ ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে হিতকর। পেঁপেতে প্রচুর পেপেন এনজাইম আছে যা মানুষের পাকস্থলীতে আমিষ হজমে সাহায্য করে। লিভার ভালো রাখতে নিয়মিত খেতে হবে পুষ্টিকর পেঁপে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পেঁপে লিভারে থাকা সমস্ত অপ্রয়োজনীয় বস্তুকে বের করে বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচায়।

পেঁপে খেতে মিষ্টি স্বাদের হলেও এতে চিনির পরিমাণ কম থাকে। এক কাপ টুকরো করা পেঁপেতে ৮ দশমিক ৩ গ্রাম চিনি থাকে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধক উপাদান আছে পেঁপেতে।

পেঁপেতে টমেটো বা গাজরের চেয়েও বেশি ভিটামিন এ আছে। এ ছাড়া চোখের মিউকাস মেমব্রেনকে সবল করতে ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে যে ধরনের উপাদান দরকার, পেঁপেতে তা অধিক পরিমাণে থাকে।

পেঁপের পাতার রস পান করলে হজমশক্তি বাড়ে, শরীর দ্রুত প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়া সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সুস্বাধু পাকা পেঁপে ত্বক, হজম শক্তি বাড়ায়, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ক্যান্সারের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। সকালে খালি পেটে কাচা পেঁপে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দূর হয়।

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ডার্ক চকলেট

চকলেট তৈরির মূল উপাদান কোকোয়া বিনে আছে প্রচুর পরিমাণ এন্টি অক্সিডেন্ট। এন্টি অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের জন্য দারুণ উপকারি।

ডার্ক চকোলেট পৃথিবীতে সবচাইতে উৎকৃষ্ট অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের উৎস। ডার্ক চকোলেট হৃদপিণ্ডের রোগ হবার প্রবণতা কমিয়ে আনে এবং কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। মূলত কোকো গাছের বীজ থেকে চকোলেট তৈরি হয়। 

ডার্ক চকোলেট অত্যন্ত পুষ্টিকর। উচ্চ রক্ত চাপ কমিয়ে,ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করে, হৃদপিণ্ডকে সচল রাখে।

ডার্ক চকলেটে প্রচুর পরিমাণে সক্রিয় জৈব উপাদান রয়েছে । চকলেট তৈরির মূল উপাদান কোকোয়া ফ্লাভিনয়েডে ভরপুর। এই উপাদানটি ত্বককে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

চকলেট খেলে নিমেষে মন ভালো হয়ে যায়। ব্যাপারটা শুধু যে আমাদের মস্তিষ্কের একটা অনুভূতি তাই নয়, চকলেটে থাকা পলিফেনল বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা দূর করে মুড ভালো করতে সাহায্য করে।

চকলেট আমাদের মস্তিষ্কের সক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত চকলেট খেলে আমাদের শেখার সক্ষমতা বাড়ে। এটা দীর্ঘস্থায়ি স্মৃতি ও ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি দুটোই সংরক্ষণে সাহায্য করে।

দৈনিক ২৫ গ্রাম ডার্ক চকলেট (চিনি ছাড়া) খেলে ৮ সপ্তাহ পর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ঘৃতকুমারীর যত গুনাগুণ

ঘৃতকুমারী বহুজীবী ভেষজ উদ্ভিদ এবং দেখতে অনেকটা আনারস গাছের মত। এর পাতাগুলি পুরু, দুধারে করাতের মত কাঁটা এবং ভেতরে লালার মত পিচ্ছিল শাঁস থাকে। সবরকম জমিতেই ঘৃতকুমারী চাষ সম্ভব, তবে দোঁআশ ও অল্প বালি মিশ্রিত মাটিতে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। নিয়মিত জলসেচের দরকার হলেও গাছের গোড়ায় যাতে জল না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এই ঘৃতকুমারীতে রয়ছে ২০ রকমের খনিজ। মানবদেহের জন্য যে ২২টা এএমিনো অ্যাসিড প্রয়োজন এতে বিদ্যমান। এছাড়াও ভিটামিন A, B1, B2, B6, B12, C এবং E রয়েছে।

শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে নিয়মিতভাবে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা গ্রহণ প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে।

শরীরে নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে আর অসুখ-বিসুখ সারিয়ে তুলতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতুলনীয়।

ঘৃতকুমারী দেহের অভ্যন্তরীণ পদ্ধতির সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রতিদিন অ্যালোভেরার রস বা জুস পান করলে ত্বক, চুল ও দেহকে পরিশুদ্ধ করে প্রাণবন্ত করে তোলে। অ্যালোভেরা জুস খাওয়া মাত্র সারা শরীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রভাব বেড়ে যায়, যে কারণে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও হ্রাস পায়। ফলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও দূর হয়।

নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ছোট-বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে এই ভেষজ উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর পাচক রসের ক্ষরণ এতটা বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজমের মতো রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

ত্বক ও চুলের জন্য এটা দারুণ উপকারী। এটা ত্বকের নানা ক্ষত সারিয়ে তুলতে কার্যকরী। রোদে পোড়া, ত্বকে ফুসকুড়ি পড়া ও পোকার কামড়ের মতো বাহ্যিক সমস্যাগুলো সারিয়ে তুলতে পারে সহায়ক এটা।

অ্যালোভেরার জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। দাঁতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ওজন কমাতে অ্যালভেরা জুস বেশ কার্যকরী। ক্রনিক প্রদাহের কারণে শরীরে মেদ জমে। অ্যালোভেরা জুসের অ্যাণ্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান এই প্রদাহ রোধ করে ওজন হ্রাস করে থাকে। পুষ্টিবিদগণ এই সকল কারণে ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা জুস রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

অ্যালোভেরা জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে নিয়মিত এর জুস খাওয়া গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। সুতরাং খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

অ্যালোভেরায় আছে ভিটামিন-সি, যা মুখের জীবাণু দূর করে মাড়ি ফোলা, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে। গবেষণাই দেখা গেছে যে, অ্যালোভেরার জেল মাউথ ওয়াশ এর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

মাথায় খুশকি দূর করতে এর কোন তুলনা নেই। এমনকি ঝলমল চুলের জন্যেও অ্যালোভেরা অনেক উপকারী। সুতরাং চুলের যত্নে অ্যালোভেরা আপনার নিত্যসংগী।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যালো ইমোডিন, যা স্তন ক্যান্সার ছড়ানো থেকে রোধ করে। এছাড়াও অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধে অ্যালোভেরা অনেক কার্যকারী ভূমিকা পালন করে থাকে।

অ্যালোভেরার জুসের মধ্যে যে জেল থাকে তার অনেক গুন। এই জেল নিয়মিত পানে পেটের সমস্যা দূর হবে। আর যদি সুষম খাদ্যের পাশাপাশি নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পান করেন তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হওয়া সম্ভাব।

মাশরুম ক্যান্সার ও টিউমার বৃদ্ধিতে বাঁধা দেয়

দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যতালিকায় মাশরুম রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এটি মাংসল ছত্রাক থেকে হয়, যা আদিকাল থেকে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে

মাশরুম একটি এন্টিঅক্সিডেন্ট ধারণকারী উচ্চতর খাদ্য উপাদান যা স্তন ক্যান্সার, উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং মেদ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

মাশরুমের প্রোটিন অতি উন্নতমানের। গর্ভবতী মহিলাদের মাশরুম রক্তস্বল্পতার দূর করে।১০০ গ্রাম শুকনো মাশরুমে ২৫-৩৫ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। মাশরুমে শস্য, ডাল, শাক সবজি হতে অনেক বেশি প্রোটিন । সূর্যের আলোর সংস্পর্শে যে মাশরুম উৎপন্ন হয় তাতে প্রচুর ভিটামিন ডি থাকে ।

ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে মাশরুম বেশ উপকারী। নিয়মিত মাশরুম খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। মাশরুমের ফাইটোকেমিক্যাল টিউমারের বৃদ্ধিতে বাঁধার সৃষ্টি করে।  

মাশরুমের ফাইবার বা আঁশ পাকস্থলী দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে।

মাশরুম ঠাণ্ডা জনিত রোগ প্রতিরোধ করে।

বেল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়

বেল একটি পুষ্টিকর আর উপকারী ফল। কাচা পাকা দুটোই সমান উপকারী। কাচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগে ধন্বন্তরী। পাকা বেলের শরবত সুস্বাদু।

বেল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও আমাশয়ে উপকার করে। আধাপাকা সিদ্ধ ফল আমাশয়ে অধিক কার্যকরী। বেলের শরবত হজমশক্তি বাড়ায় এবং তা বলবর্ধক।

বেলের পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি ও জ্বালা উপশম হয়। পাতার রস, মধু ও গোল মরিচ এর গুঁড়া মিশিয়ে পান করলে জন্ডিস রোগ নিরাময় হয়।

পেট খারাপ, আমাশয়, শিশুর স্মরণ শক্তি বাড়ানোর জন্য বেল উপকারী। বেলে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। এই ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

বেল নিয়মিত খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়।

নানা ঔষধি গুণে ভরা সর্বরোগ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত এই ফল খেতে পারেন। বেলের ভিটামিন সি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগকে প্রতিরোধ করে হলুদ

মসলাজাতীয় ফসলের তালিকায় শীর্ষ ব্যবহারযোগ্য ফসলের মধ্যে হলুদ অন্যতম। কাঁচা হলুদ থেকে শুরু করে গুঁড়া হলুদের ব্যবহার ব্যাপক। শুধুমাত্র হলুদ দিয়েই রোগ নিরাময়ে বহুমাত্রিক ব্যবহার সম্ভব।

হলুদ শরীরের জন্য কতটা উপকারি তা আলাদা করে বলার অবকাশ রাখে না। কিন্তু জানেন কি, ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে হলুদ।

সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষক কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য হলুদের মধ্যে কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন। 

গবেষকরা জানাচ্ছেন, হলুদের  কারকিউমিন কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। এছাড়া কাঁটা গাছ থেকে পাওয়ার সিলিমেরিন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে মনে করছেন  গবেষকরা। 

কাঁটাগাছের এই নির্যাস সাধারণত পেটের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই দুই উপাদানের মিশ্রণ  কোলন ক্যান্সারের কোষের মৃত্যু ঘটায়। 

যদি উদ্ভিজ্জ উপাদানের সহায়তায়  কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়, তাহলে ক্যান্সারের ফলে শরীরে আনুষাঙ্গিক যা ক্ষতি হয়, তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ওজন কমাতে মিষ্টি আলু উপকারিতা

ওজন কমাতে মিষ্টি আলুর উপকারিতা?

ওজন কমাতে মিষ্টি আলু

ওজন কমাতে মিষ্টি আলু , ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে আলু খেতে পারছেন না? এবার থেকে তবে মিষ্টি আলু খাওয়া শুরু করুন।

কারণ এটি আপনার ওজন বাড়াতে নয়, কমাতে সাহায্য করবে। আলুর স্বাদ তো পাবেনই, পাশাপাশি ওজন নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তাও থাকবে না।

আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের পাশাপাশি এতে আছে ভিটামিন এ।

সাধারণত ডায়াবেটিক ও স্থুলতার রোগীদের আলু খেতে নিষেধ করা হয় কারণ এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি মাত্রায় থাকে। তবে মিষ্টি আলুতে এটি একেবারেই কম থাকে।

মিষ্টি আলু খেলে ওজন কমে, কারণ:-

আলুতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার যা অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না।

মিষ্টি আলু হজমশক্তি অর্থাৎ মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে খাওয়া ভালোভাবে হজম হয়। গ্যাসের সমস্যা বা পেটের সমস্যা হয় না।

শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি শোষণ করতে সক্ষম মিষ্টি আলু। অনেকের ওজন বেশি থাকে এই অতিরিক্ত পানির কারণেই।

শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু। ফলে এক্সাসাইজ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা বজায় থাকে। এটি খেলে ক্লান্তিভাব আসে না সারাদিনে।

শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু। কারণ এতে ক্যাটালেস ধরনের অ্যান্টিঅক্সাইডের পরিমাণ বেশি। এছাড়াও রয়েছে জিঙ্ক সুপারঅক্সাইড, স্পোরামিন।

ওজন কমাতে মিষ্টি আলু যেভাবে খাবেন:

অনেকেই মিষ্টি আলু খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না। তাই বলে এটি মুখরোচক করতে গিয়ে ভেজে খাবেন না যেন!

কারণ তাতে ভালো ফল তো পাবেনই না উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই ওজন কমাতে চাইলে এইসব উপায়ে মিষ্টি আলু খান

১। মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে তা খান, ভেজে নয়।
২। মাইক্রোওয়েভে বেক করে খেতে পারেন।
৩। সালাদের সাথে একটুকরো কাঁচা আলু চাইলে মিশিয়ে খেতে পারেন।
৪। মিষ্টি আলু খেলে যেহেতু এনার্জি বাড়ে, তাই এক্সাসাইজ করার আগে যখন কিছু খান তাতে এটি যোগ করে নিন। বেশিক্ষণ ধরে এক্সাসাইজ করার ক্ষমতা পাবেন ফলে দ্রুত কমবে ওজন।
৫। সপ্তাহে রোজ না হলে ৪ থেকে ৫ দিন একটি থেকে দুটি মিষ্টি আলু খাওয়ার অভ্যাস করুন। সুস্থ থাকার সাথে সাথে ওজনও কমাতে পারবেন সহজে

ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি আলু খাওয়া যাবে?

আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে মিষ্টি আলু খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কারণ কার কার কি ধরনের, কত পরিমানে সুগার রয়েছে তা নির্ণয় না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

যারা সুগার হওয়ার ভয়ে ও ওজন বাড়ার ভয়ে আলু খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তারা বরং অবশ্যই এটি খাওয়া শুরু করুন।

কারণ এতে সুগার হওয়ার কোনো ভয় নেই ও এটি খেলে ওজন কমতে শুরু করবে।

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায়

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায়

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায়

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায় , ওজন কমানো নিয়ে যেমন অনেকে মুশকিলে পড়েন, তেমনই ওজন বাড়ানো নিয়েও ভুগে থাকেন অনেকেই। যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, ওজন বাড়ে না।

আমাদের শরীরের ওজন সঠিক কি না তা পরীক্ষা করার উপায় হলো বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বা উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত।

বিএমআই চার্ট অনুযায়ী ওজন কম হলে তা বাড়ানো জরুরি। নয়তো ওজনহীনতা আপনার নানারকম ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

এমনকিছু উপায় আছে যা মেনে চললে মাত্র সাত দিনেই আপনি স্বাস্থ্যবান হতে পারবেন। তবে সেজন্য অনিয়ম করলে চলবে না।

ওজন বাড়াতে হবে নিয়ম মেনেই। জেনে নিন মাত্র সাত দিনে ওজন বাড়ানোর সাত উপায়-

শুকনো ফল: 

ওজন বাড়াতে খেতে পারেন শুকনো ফল। এক্ষেত্রে আপনার জন্য সবচেয়ে উপকারী হলো বাদাম, খেজুর ও কিসমিস।

দিনের শুরুটা হোক বাদাম. কিসমিস ও খেজুর দিয়ে। কারণ এসব খাবার থেকে প্রচুর ক্যালরি মেলে। এই ক্যালরি আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

একটু বেশি করে খান: 

আপনার ওজন না বাড়ার কারণ কিন্তু কম খাবার খাওয়া। তাই প্রতিদিন যতটুকু খান, তার থেকে খানিকটা বাড়িয়ে খেতে হবে।

প্রতিদিনের খাবারের চার ভাগের একভাগ বাড়িয়ে খেতে হবে। তবে অতিরিক্ত খাবেন না যেন। সেক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে।

উচ্চ ক্যালরি যুক্ত খাবার: 

খাবার যেন উচ্চ ক্যালরি যুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। খেতে পারেন ঘি, মাখন, ডিম, পনির, কোমল পানীয়, গরু-খাসির মাংস,

আলু ভাজা, মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, কন্ডেনস্ড মিল্ক, ডিম, কিসমিস, খেজুর, দই, কলা, আঙুরের জুস, আনারস ইত্যাদি। কারণ এসব খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে।

ফল ও শাক-সবজি: 

ফল ও শাক-সবজি যেমন ওজন কমাতে সাহায্য করে তেমনই ওজন বাড়াতেও সাহায্য করে। কারণ কিছু ফল আছে যাতে প্রচুর ক্যালরি থাকে।

তাই ওজন বাড়াতে চাইলে আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঁচা কলা ইত্যাদি খান।

ঘুমের আগে মধু ও দুধ: 

ওজন বাড়াতে প্রতিবেলা পেটপুরে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন ঘুমের আগে মধু ও দুধ খাবেন।

এটি আপনার শরীরে বাড়তি ওজন যোগ করবে। প্রতিরাতে ঘুমের আগে এক গ্লাস দুধের সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খাবেন।

শরীরচর্চা করুন: 

শরীরচর্চা যে শুধু ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন, এমন নয়। ওজন বাড়াতেও এটি কার্যকর। কিভাবে? আপনি যদি প্রতিদিন শরীরচর্চা করেন তবে হজমশক্তি ও ক্ষুধাভাব বাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে ক্ষুধা লাগার কারণে খাবারে রুচিও বাড়বে। আর তখন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে ওজন বাড়বেই।

পর্যাপ্ত ঘুম: 

ওজন বাড়াতে আপনাকে সাহায্য করবে পর্যাপ্ত ঘুম। এর পাশাপাশি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকাও জরুরি। কারণ দুশ্চিন্তামুক্ত থাকলে খুব সহজেই আপনার ভালো ঘুম হবে। দৈনিক অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুম হলেই আপনার ওজন বাড়বে নিশ্চিত।

বেশি লবণ খাবেন না?

বেশি লবণ খাবেন না

বেশি লবণ খাবেন না , বেশি লবণ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর
প্রতিদিন শরীরে কিছু পরিমাণ লবণ বা সোডিয়াম প্রয়োজন।

সোডিয়াম শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে তরলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রতিদিন শরীরে পাঁচ গ্রাম লবণ প্রয়োজন। এক চা চামচে ছয় গ্রাম লবণ থাকে। তবে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ শরীরের ক্ষতি করে।

আপনি কি বেশি লবণ খাচ্ছেন? আর শরীরে কি লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে?

কিন্তু জানেন কি শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কিন্তু বুঝবেন কীভাবে যে আপনার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেছে

১) কিডনির ক্ষতি করে :

শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অল্প পরিমাণ সোডিয়াম প্রয়োজন। তবে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অতিরিক্ত লবণ কিডনির কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।

২) রক্তচাপ বাড়ায় :

উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের প্রধান কারণ। আর উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার বড় কারণ হলো বেশি মাত্রায় লবণ খাওয়া।

৩) পাকস্থলীর ক্যানসার :

বেশি লবণ ও লবণযুক্ত খাবার খাওয়া পাকস্থলীর ক্যানসার তৈরি করতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, কম পরিমাণ লবণ খাওয়া পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

৪) হাড় দুর্বল করে :

বেশি পরিমাণ লবণ খাওয়া হাড়ের জন্যও ক্ষতিকর। বেশি লবণ খেলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম কমে যায়। ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত ও শক্ত করে। হাড় ক্ষয় হলে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।

৫) শরীর ফুলে যাওয়া :

বেশি মাত্রায় সোডিয়াম বা লবণ খাওয়া ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট করে। এটি শরীর ফোলার সমস্যা তৈরি করে।

শরীর ফুলে যাওয়ার সমস্যা দৈনন্দিন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে।