ওজন কমাতে মিষ্টি আলু উপকারিতা

ওজন কমাতে মিষ্টি আলুর উপকারিতা?

ওজন কমাতে মিষ্টি আলু

ওজন কমাতে মিষ্টি আলু , ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে আলু খেতে পারছেন না? এবার থেকে তবে মিষ্টি আলু খাওয়া শুরু করুন।

কারণ এটি আপনার ওজন বাড়াতে নয়, কমাতে সাহায্য করবে। আলুর স্বাদ তো পাবেনই, পাশাপাশি ওজন নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তাও থাকবে না।

আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টের পাশাপাশি এতে আছে ভিটামিন এ।

সাধারণত ডায়াবেটিক ও স্থুলতার রোগীদের আলু খেতে নিষেধ করা হয় কারণ এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি মাত্রায় থাকে। তবে মিষ্টি আলুতে এটি একেবারেই কম থাকে।

মিষ্টি আলু খেলে ওজন কমে, কারণ:-

আলুতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার যা অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই থাকে না।

মিষ্টি আলু হজমশক্তি অর্থাৎ মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে খাওয়া ভালোভাবে হজম হয়। গ্যাসের সমস্যা বা পেটের সমস্যা হয় না।

শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি শোষণ করতে সক্ষম মিষ্টি আলু। অনেকের ওজন বেশি থাকে এই অতিরিক্ত পানির কারণেই।

শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু। ফলে এক্সাসাইজ করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা বজায় থাকে। এটি খেলে ক্লান্তিভাব আসে না সারাদিনে।

শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু। কারণ এতে ক্যাটালেস ধরনের অ্যান্টিঅক্সাইডের পরিমাণ বেশি। এছাড়াও রয়েছে জিঙ্ক সুপারঅক্সাইড, স্পোরামিন।

ওজন কমাতে মিষ্টি আলু যেভাবে খাবেন:

অনেকেই মিষ্টি আলু খেতে খুব একটা পছন্দ করেন না। তাই বলে এটি মুখরোচক করতে গিয়ে ভেজে খাবেন না যেন!

কারণ তাতে ভালো ফল তো পাবেনই না উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই ওজন কমাতে চাইলে এইসব উপায়ে মিষ্টি আলু খান

১। মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে তা খান, ভেজে নয়।
২। মাইক্রোওয়েভে বেক করে খেতে পারেন।
৩। সালাদের সাথে একটুকরো কাঁচা আলু চাইলে মিশিয়ে খেতে পারেন।
৪। মিষ্টি আলু খেলে যেহেতু এনার্জি বাড়ে, তাই এক্সাসাইজ করার আগে যখন কিছু খান তাতে এটি যোগ করে নিন। বেশিক্ষণ ধরে এক্সাসাইজ করার ক্ষমতা পাবেন ফলে দ্রুত কমবে ওজন।
৫। সপ্তাহে রোজ না হলে ৪ থেকে ৫ দিন একটি থেকে দুটি মিষ্টি আলু খাওয়ার অভ্যাস করুন। সুস্থ থাকার সাথে সাথে ওজনও কমাতে পারবেন সহজে

ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি আলু খাওয়া যাবে?

আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে মিষ্টি আলু খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কারণ কার কার কি ধরনের, কত পরিমানে সুগার রয়েছে তা নির্ণয় না করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

যারা সুগার হওয়ার ভয়ে ও ওজন বাড়ার ভয়ে আলু খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তারা বরং অবশ্যই এটি খাওয়া শুরু করুন।

কারণ এতে সুগার হওয়ার কোনো ভয় নেই ও এটি খেলে ওজন কমতে শুরু করবে।

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায়

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায়

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায়

ওজন বাড়ানোর সাতটি উপায় , ওজন কমানো নিয়ে যেমন অনেকে মুশকিলে পড়েন, তেমনই ওজন বাড়ানো নিয়েও ভুগে থাকেন অনেকেই। যত চেষ্টাই করা হোক না কেন, ওজন বাড়ে না।

আমাদের শরীরের ওজন সঠিক কি না তা পরীক্ষা করার উপায় হলো বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বা উচ্চতা ও ওজনের অনুপাত।

বিএমআই চার্ট অনুযায়ী ওজন কম হলে তা বাড়ানো জরুরি। নয়তো ওজনহীনতা আপনার নানারকম ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

এমনকিছু উপায় আছে যা মেনে চললে মাত্র সাত দিনেই আপনি স্বাস্থ্যবান হতে পারবেন। তবে সেজন্য অনিয়ম করলে চলবে না।

ওজন বাড়াতে হবে নিয়ম মেনেই। জেনে নিন মাত্র সাত দিনে ওজন বাড়ানোর সাত উপায়-

শুকনো ফল: 

ওজন বাড়াতে খেতে পারেন শুকনো ফল। এক্ষেত্রে আপনার জন্য সবচেয়ে উপকারী হলো বাদাম, খেজুর ও কিসমিস।

দিনের শুরুটা হোক বাদাম. কিসমিস ও খেজুর দিয়ে। কারণ এসব খাবার থেকে প্রচুর ক্যালরি মেলে। এই ক্যালরি আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

একটু বেশি করে খান: 

আপনার ওজন না বাড়ার কারণ কিন্তু কম খাবার খাওয়া। তাই প্রতিদিন যতটুকু খান, তার থেকে খানিকটা বাড়িয়ে খেতে হবে।

প্রতিদিনের খাবারের চার ভাগের একভাগ বাড়িয়ে খেতে হবে। তবে অতিরিক্ত খাবেন না যেন। সেক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে।

উচ্চ ক্যালরি যুক্ত খাবার: 

খাবার যেন উচ্চ ক্যালরি যুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। খেতে পারেন ঘি, মাখন, ডিম, পনির, কোমল পানীয়, গরু-খাসির মাংস,

আলু ভাজা, মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, কন্ডেনস্ড মিল্ক, ডিম, কিসমিস, খেজুর, দই, কলা, আঙুরের জুস, আনারস ইত্যাদি। কারণ এসব খাবারে প্রচুর ক্যালরি থাকে।

ফল ও শাক-সবজি: 

ফল ও শাক-সবজি যেমন ওজন কমাতে সাহায্য করে তেমনই ওজন বাড়াতেও সাহায্য করে। কারণ কিছু ফল আছে যাতে প্রচুর ক্যালরি থাকে।

তাই ওজন বাড়াতে চাইলে আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, কাঁচা কলা ইত্যাদি খান।

ঘুমের আগে মধু ও দুধ: 

ওজন বাড়াতে প্রতিবেলা পেটপুরে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন ঘুমের আগে মধু ও দুধ খাবেন।

এটি আপনার শরীরে বাড়তি ওজন যোগ করবে। প্রতিরাতে ঘুমের আগে এক গ্লাস দুধের সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খাবেন।

শরীরচর্চা করুন: 

শরীরচর্চা যে শুধু ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন, এমন নয়। ওজন বাড়াতেও এটি কার্যকর। কিভাবে? আপনি যদি প্রতিদিন শরীরচর্চা করেন তবে হজমশক্তি ও ক্ষুধাভাব বাড়বে।

নির্ধারিত সময়ে ক্ষুধা লাগার কারণে খাবারে রুচিও বাড়বে। আর তখন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে ওজন বাড়বেই।

পর্যাপ্ত ঘুম: 

ওজন বাড়াতে আপনাকে সাহায্য করবে পর্যাপ্ত ঘুম। এর পাশাপাশি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকাও জরুরি। কারণ দুশ্চিন্তামুক্ত থাকলে খুব সহজেই আপনার ভালো ঘুম হবে। দৈনিক অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুম হলেই আপনার ওজন বাড়বে নিশ্চিত।

বেশি লবণ খাবেন না?

বেশি লবণ খাবেন না

বেশি লবণ খাবেন না , বেশি লবণ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর
প্রতিদিন শরীরে কিছু পরিমাণ লবণ বা সোডিয়াম প্রয়োজন।

সোডিয়াম শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে তরলের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রতিদিন শরীরে পাঁচ গ্রাম লবণ প্রয়োজন। এক চা চামচে ছয় গ্রাম লবণ থাকে। তবে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ শরীরের ক্ষতি করে।

আপনি কি বেশি লবণ খাচ্ছেন? আর শরীরে কি লবণ বা সোডিয়াম ক্লোরাইডের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে?

কিন্তু জানেন কি শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

কিন্তু বুঝবেন কীভাবে যে আপনার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেছে

১) কিডনির ক্ষতি করে :

শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অল্প পরিমাণ সোডিয়াম প্রয়োজন। তবে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অতিরিক্ত লবণ কিডনির কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।

২) রক্তচাপ বাড়ায় :

উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের প্রধান কারণ। আর উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার বড় কারণ হলো বেশি মাত্রায় লবণ খাওয়া।

৩) পাকস্থলীর ক্যানসার :

বেশি লবণ ও লবণযুক্ত খাবার খাওয়া পাকস্থলীর ক্যানসার তৈরি করতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, কম পরিমাণ লবণ খাওয়া পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

৪) হাড় দুর্বল করে :

বেশি পরিমাণ লবণ খাওয়া হাড়ের জন্যও ক্ষতিকর। বেশি লবণ খেলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম কমে যায়। ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত ও শক্ত করে। হাড় ক্ষয় হলে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।

৫) শরীর ফুলে যাওয়া :

বেশি মাত্রায় সোডিয়াম বা লবণ খাওয়া ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট করে। এটি শরীর ফোলার সমস্যা তৈরি করে।

শরীর ফুলে যাওয়ার সমস্যা দৈনন্দিন কার্যক্রমকে ব্যাহত করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার কী

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার কী?

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার কী

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার কী , ডায়াবেটিতে আক্রান্ত হলে আমরা কী খাব আর খাব না, তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। কখনো ভুল নিয়ম পালন করতে গিয়ে নিজেদের ক্ষতি করে বসি।

এতে ডায়াবেটিস রোগীর জীবন দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ে। আপনাদের ভুল ধারনা দূর করতে পুষ্টিবীদ ক্রিস্টে মেয়ারের পরামর্শ-

১. ঘুম থেকে ওঠার ঘণ্টাখানেকের ভেতরই খেতে হবে। খুব ভারী খাবার খেতে হবে এমনটা না, হালকা কিছু হলেও চলবে।

এতে আপনার হজম প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। প্রোটিন, শ্বেতসার ও চর্বিজাতীয় খাবার মেন্যুতে থাকতে পারে।

২. যখনই আপনি খাবেন, তালিকায় প্রোটিন ও চর্বিযুক্ত খাবার রাখবেন। ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাবেন। এটা আপনার শারীরিক পরিশ্রমে সহায়ক হবে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ায় শরীর সুস্থ থাকবে।

৩. প্রতি তিন থেকে চারঘণ্টার মধ্যে খাবার খেতে হবে। এ নিয়ম আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া রোধ করবে।

একই পরিমাণ শ্বেতসার জাতীয় খাবার গ্রহণ রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যদি আপনি সকালে দুই পদের খাবার খান, তবে সবসময় এ দুটো খাওয়াই আপনার জন্য ভাল হবে।

৪. শ্বেতসার জাতীয় খাবার কম খাবেন। তবে একেবারে বাদ দেবেন না। প্রোটিনের সমপরিমাণ রাখবেন। কেউ কেউ শ্বেতসার খাবার খেতে না করতে পারেন। কিন্তু সেটা আপনাকে ভুল পথে নিয়ে যাবে।

প্রতিদিনের খাবারে শ্বেতসারের জায়গা রাখতে হবে। যখন কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, তখন শ্বেতসারের পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিটি মানুষের আলাদা বৈশিষ্ট্যের। আপনার ঔষধ, শরীরের ওজন ও ইনসুলিন ঠিক করে দেবে, প্রতিবার খাবারে টেবিলে বসে আপনি কতটা খাবেন।

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার কী

৫. সম্ভাব্য সবচেয়ে ভাল শ্বেতসার জাতীয় খাবারটি বেছে নেবেন। আপনাকেই বাছাই করে নিতে হবে,

কোনটা আপনি সহ্য করতে পারবেন, কোনটা পারবেন না। আস্ত শস্যদানা, মটর জাতীয় শস্য, শস্যকনা, টমেটো ও ফল খেতে পারেন।

৬. পানি পান করুন। শর্করাজাতীয় পানীয় খাবেন না।

৭. নিয়মিত শরীর চর্চা করুন। দিনে অন্তত আধঘণ্টা। হাঁটা, সাঁতার কাটা, হালকা দৌড়ানো ও ওয়েট লিফটিং- এ রকম যে কোনো ধরনের শরীর চর্চা গুরুত্বপূর্ণ।

৮. প্রচুর সবজি খাবেন। খেতে বসলে প্লেটের অর্ধেকটা সবজিতে ভরে রাখবেন।

৯. অ্যালকোহল কমিয়ে দেন অথবা একেবারে বাদ দিন। তবে মাঝেমধ্যে কোনো অনুষ্ঠানে আপনি এটা খেতে পারেন। তাতে সমস্যা হবে না। কিন্তু নিয়মিত খেলে আপনার নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১০. জানুন ও বুঝতে চেষ্টা করুন শর্করামুক্ত বলতে শ্বেতসারমুক্ত না। শর্করামুক্ত বিস্কুট, চকোলেট, কেক ও রাতের খাবার রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। কাজেই এসব খাবার খেতে আপনাদের সংযম অবলম্বন করতে হবে।

আখ খেলে কী হয়

আখ খেলে কী হয়?

আখ খেলে কী হয়

আখ খেলে কী হয় , খোলস যতটা শক্ত, ভেতরটা ঠিক ততটাই রসালো। চিবুলেই মিষ্টি রসে ভরে যায় মুখ। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কীসের কথা বলছি? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। বলছি আখের কথা।

আখে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, উপকারি অ্যামাইনো অ্যাসিড,

জিঙ্ক, থিয়ামিন এবং রাইবোফ্লেবিন আমাদের শরীরের একাধিক উপকারে আসে।

আখের রসে উপস্থিত ফলিক অ্যাসিড প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত একাধিক সমস্যা দূরে রাখে। সেই সঙ্গে শিশুর শারীরিক উন্নতি ঘটায়।

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত আখের রস খাওয়া পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্সে একেবারে তলার দিকে থাকার কারণে আখের রস খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার কোননো আশঙ্কা থাকে না।

বরং এই প্রকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়ম করে আখের রস খাওয়া পরামর্শ দেয়া হয়।

আখের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

সেইসঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। ক্যান্সার রোগকে দূরে রাখতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আখ খেলে কী হয়

আখের রসে উপস্থিত ল্যাক্সেটিভ প্রপাটিজ বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমে।

আখে থাকা অ্যালকেলাইন প্রপাটিজ গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আখের একাধিক উপকারি উপাদান ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন সারাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

সেই সঙ্গে কিডনি স্টোনের মতো সমস্যা দূর করতেও সাহায্য় করে। কিডনি ফাংশনকে ঠিক রাখতেও আখের রসের বিকল্প হয় না।

আখের কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অন্য়ান্য় উপকারি উপাদান শরীরে এনার্জির ঘাটতি দূর করে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই মন এবং শরীর, দুইই চনমনে হয়ে ওঠে। আখের রস শরীরের অন্দের প্লাজমা এবং বডি ফ্লইডের ঘাটতি মেটায়।

লিভারকে সুস্থ রাখতে আখের রস দারুণ কাজে আসে। জন্ডিসের প্রকোপ কমাতে রোগীকে আখের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

শুধু তাই নয়, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি প্রোটিনের চাহিদা মেটাতেও আখ বিশেষ ভূমিকা নেয়।

নিয়মিত আখের রস খাওয়া শুরু করলে শরীরের ফ্লবোনয়েড নামক একটি বিশেষ উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

এই উপাদানটি ক্যান্সার সেলেদের ধ্বংস করে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

টয়লেট চেপে রাখলে ক্ষতি

টয়লেট চেপে রাখলে কী হয় জানেন?

টয়লেট চেপে রাখলে ক্ষতি

টয়লেট চেপে রাখলে ক্ষতি , কাজের চাপে টয়লেটে যাওয়ার সময়টুকুও পান না? অথবা বাইরে বের হলে অস্বাস্থ্যকর টয়লেট এড়িয়ে চলতে গিয়ে ঠিক সময়ে টয়লেট করাই হয় না ।

বাড়িতে থাকলেও অনেক সময় অলসতা করে টয়লেট চেপে রাখার অভ্যাসও অনেকের।

কিছুই হবে না ভেবে দীর্ঘ সময় টয়লেট চেপে রাখার অভ্যাস থাকলে তা আজই বাদ দিন। কারণ আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর না

হলেও এই অভ্যাসই আপনাকে ফেলতে পারে ভয়ঙ্কর সব বিপদে। শারীরিক নানা সমস্যা তো দেখা দেবেই এমনকী অনেকগুলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলও হতে পারে!

জেনে নিন টয়লেট চেপে রাখলে কী হতে পারে?

১) ব্লাডারের ক্ষতি: 

আমাদের শরীরের তরল বর্জ্য দেহের ঘাম এবং মূত্রে পরিণত হয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু আপনি ইউরিনেট না করলে, তা তো ব্লাডারে জমতে থাকে অনেকক্ষণ ধরে।

ব্লাডারের উপর চাপ বাড়তে থাকে। ব্লাডারের পেশিগুলোর উপর প্রভাব পড়ে, ব্লাডারের আয়তনও বেড়ে যেতে পারে।

দীর্ঘদিন এভাবে চেপে রাখার ফলে অনেকের এতটাই সমস্যা হয় যে, ব্লাডারের অপারেশনও করতে হয়।

২) ব্যথা: 

যতবার আপনি টয়লেটে না গিয়ে চেপে রাখছেন তাতে আপনার ব্লাডারে চাপও বাড়ছে। আর এই চাপ থেকেই একটা সময় দেখবেন যন্ত্রণা হচ্ছে।

যেটা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। অনেকে ভেবে নেন, যন্ত্রণাটা কিছুক্ষণ সহ্য করে নিলেই পরে সমস্যা থেকে মুক্তি। কিন্তু না।

অনেক দিনের এই যন্ত্রণা তো এক দিনের নয়। তই এর ভোগান্তিও অনেকটাই।

৩) ইউটিআই: 

ব্যাকটেরিয়ার ভয়ে অনেকেই পাবলিক টয়লেট বা বাইরের যেকোনো টয়লেট এড়িয়ে চলেন।

কিন্তু দীর্ঘ সময় টয়লেট চেপে রাখার কারণে আপনার শরীরে কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকলে সে আনন্দে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে।

সেখান থেকে আপনার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ইউটিআই থেকে আরও নানা সমস্যা হতে পারে।

এই ইউটিআই যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।


৪) কিডনির ক্ষতি: 

ব্লাডারের ক্ষতির পাশাপাশি কিডনিরও সমস্যা দেখা দেয় টয়লেট চেপে রাখলে। আমাদের শরীরের পানি পরিশোধনের দায়িত্বে থাকে এই কিডনি।

ফলে আপনি যখনই টয়লেট না করে চেপে রাখছেন, কিডনি দুটিতেও চাপ বাড়ছে। এমনকী অনেকের কিডনি স্টোনের কারণও অনেকক্ষণ ইউরিন চেপে রাখা।

এখন আপনি একটু ভেবে দেখুন, এই ক্ষতিকর দিকগুলো জানার পরেও কি আপনি টয়লেট চেপে রাখবেন না কি সময় হলেই টয়লেটে যাবেন?

নিজেকে সুস্থ রাখতে না পারলে কিন্তু আরও বেশি মুশকিলে পড়তে হবে। তাই নিজেকে সুস্থ রাখা সবার আগে জরুরি।

কিশমিশের পানি খেলে কীহয়

কিশমিশ ভেজানো পানি খেলে কী হয়?

কিশমিশের পানি খেলে কীহয়

কিশমিশের পানি খেলে কীহয় , খাবারের স্বাদ ও সৌন্দর্য বাড়াতে কিশমিশের ব্যবহারের কথা কারও অজানা নয়।

কিশমিশ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। তবে শুধু কিশমিশই নয়, কিশমিশ ভেজানো পানিও বেশ উপকারী।

কিশমিশের পানি খেলে লিভারে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয় যে কারণে শরীরে দ্রুত রক্ত পরিশোধন হতে থাকে।

আপনি যদি এক সপ্তাহ খালি পেটে কিশমিশের পানি পান করেন, তাহলে পেট একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে, 

পেটের গন্ডগোল থাকবে না সেইসঙ্গে ভরপুর শক্তি পাবেন। এছাড়া এটি হার্টকে ভালো রাখে এবং ক্ষতিকারক যে কোলেস্টেরল রয়েছে তা দূর করে।

কিশমিশ ভেজানো পানি তৈরি করতে লাগবে ২ কাপ পানি ও ১৫০ গ্রাম কিশমিশ। কিশমিশগুলোকে ভালো করে কয়েকবার ধুয়ে নিন।

এরপর একটি পাত্রে দুই কাপ পানি দিয়ে রাতভর কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন।

সকালে কিশমিশ ছেকে নিয়ে সেই পানিটা হালকা গরম করে সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন। ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট অন্য কিছু খাবেন না।

কিশমিশে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। কিশমিশ না খেয়ে শুধু কিশমিশের পানি খেলেও সেই ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে ঢোকে

পানিতে ভেজানোর আর একটা কারণ শর্করার মাত্রা কমে। চলুন জেনে নেয়া যাক কিশমিশের আরও কিছু উপকারিতা-

১) রক্তশূন্যতা দূর: 

রক্তে লৌহের পরিমাণ কম হলে অবসাদ, দুর্বলতা, হতাশায় ভুগতে পারেন, ব্যহত হতে পারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও।

কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে লৌহ আছে যা রক্তশূণ্যতার রোগীর জন্য খুব উপকারী। এছাড়া রক্ত ও লোহিত কণিকা তৈরি জন্য দরকার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও কপার, যা কিশমিশে থাকে।

২) হাড় ভালো রাখে: 

অস্টিওপোরোসিস নামক হাড়ের রোগে অনেকেই ভুগে থাকেন। এই রোগ প্রতিরোধ করতে বোরন নামের খনিজ পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আর কিশমিশ বোরনের অন্যতম উৎস। বোরনে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম-

যা হাড় গঠনের পাশাপাশি শরীরে টেসটোসটেরন এবং ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৩) রক্ত পরিষ্কার করে: 

রক্ত দূষিত হওয়াকে বলে অ্যাসিডোসিস, যা থেকে আরথ্রাইটিস, চামড়া রোগ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে।

অ্যান্টাসিডস হিসেবে পরিচিতি দুটি উপাদান ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের ক্ষরীয়ভাব স্বাভাবিক করে অ্যাসিডোসিসের হাত থেকে বাঁচায়। আর এই উপাদানগুলো কিশমিশে রয়েছ।


৪) চোখ ভালো রাখে: 

নিয়মিত কিশমিশ খেলে বৃদ্ধ বয়সে দৃষ্টিহীন হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। পাশাপাশি কিশমিশে থাকা পলিফেনল উপাদান ক্ষতিকারক ফ্রি-রেডিকেলস ধ্বংস করে চোখকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

৫) স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: 

কিশমিশে থাকা বোরন মস্তিষ্কের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া বোরন মনোযোগ বৃদ্ধি,

চোখের সঙ্গে হাতের সামঞ্জস্য বাড়ানো ও স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করতে সাহায্য করে। একশ গ্রাম কিশমিশ থেকে ২.২ মিলি গ্রাম বোরন পাওয়া যায়।

৬ ) রক্তচাপ কমায়: 

রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে কিশমিশ। মূলত কিশমিশে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

সাধারণত উচ্চ মাত্রার সোডিয়াম শরীরে রক্তচাপ বাড়ায়। কিশমিশ শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ভুট্টা

ক্যান্সারসহ ৭টি রোগ প্রতিরোধ করে ভুট্টা!

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ভুট্টা

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ভুট্টা , সেদ্ধ কিংবা ঝলসানো একটু লবণ আর লেবু মিশিয়ে খেতে দারুণ লাগে ভুট্টা। আবার ব্যস্ত সময়ের মাঝে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের চেয়ে বরং ভুট্টা কিনে খাওয়াই বেশি উপকারী।

ভুট্টায় এমনসব উপাদান রয়েছে, যা আপনার হার্ট, ত্বক, হাড় সবকিছুরই খেয়াল রাখে। ভুট্টায় থাকা ফাইবার, ফেরুলিক অ্যাসিড, ক্যারোটিন সহ নানা উপাদান আমাদের পুষ্টিগুণ বাড়াতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: 

ভুট্টায় থাকা ফেরুলিক অ্যাসিডের মতো যৌগ ব্রেস্ট এবং লিভারে থাকা টিউমারের সাইজ কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভানয়েড থাকে ভুট্টায়। যা ক্যান্সারের কোষগুলোকে বাড়তে দেয় না।

গর্ভবতীদের জন্য উপকারী: 

মায়ের পেটের ভেতরে যখন সন্তান বাড়তে থাকে, তখন তার যথেষ্ট পুষ্টির দরকার হয়। ভুট্টায় থাকে ফলিক অ্যাসিড। এই অ্যাসিড গর্ভস্থ সন্তানের বেড়ে ওঠা এবং পুষ্টির জন্য ভীষণভাবে জরুরি।

কোলেস্টরল কমায়: 

ভুট্টায় ভিটামিন সি, বায়োফ্ল্যাভনয়েড, ক্যারটিনয়েড, ফাইবার থাকে যথেষ্ট পরিমাণে। কোলেস্টরল যেখানে আমাদের নিত্যসঙ্গী,

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ভুট্টা

সেখানে ভুট্টায় থাকা এই জিনিসগুলো কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের শিরা-ধমনীও থাকে ঝঞ্ঝাটমুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই হার্টের সমস্যাও অনেকটাই কম হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: 

ভুট্টায় থাকা ফাইবার সহজেই সমাধান দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার। অনেক সময়েই আমাদের পায়ুনালী এবং অন্ত্র রোজ সঠিকভাবে পরিষ্কার হয় না,

কিন্তু ভুট্টায় থাকা ফাইবার দায়িত্ব নিয়ে এই কাজটা করে দেয়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পেতে ভুট্টা খেতে পারেন।

ত্বক সুন্দর করে: 

বয়স যতই বাড়ুক, চামড়া থাকবে টানটান। কে না চায়? ভুট্টায় ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে অনেকটাই।

এই প্রতিটা জিনিসই চামড়া টানটান করে রাখে। তাই বলিরেখার যে সমস্যা ৩০-৪০ বছরে শুরু হয়, তা ভুট্টা খেলে অনেকটাই আয়ত্তে রাখা সম্ভব হয়।

শক্তিশালী করে: 

যারা অনেক কিছু খেয়েও কিছুতেই তালপাতার সেপাই থেকে উন্নীত হতে পারছেন না, তারা ভুট্টায় ভরসা রাখুন।

এতে থাকা যথেষ্ট পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালোরি আপনাকে শক্তিশালী করে তুলবে।

হাড় শক্ত করে: 

জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন থাকে ভুট্টায়। তাই ভুট্টা যত খাবেন, এই মিনারেলগুলো আপনার শরীরে পৌঁছে যাবে।

আর এগুলোই আপনার আর্থ্রাইটিসের ব্যথা অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে।

করলা খেলে কি হয়

করলা খেলে কি হয় জানেন?

করলা খেলে কি হয়

করলা খেলে কি হয় , তেতো কথা শুনতে কেউ পছন্দ না করলেও তেতো খাবার কিন্তু খেতে ভালোবাসেন অনেকেই।

গরম একথালা ভাতের সঙ্গে তেতো করলার ভাজি হলে যেন আর কিছু লাগে না! তবে সবারই যে পছন্দ তা কিন্তু নয়, বরং তেতো স্বাদের ভয়ে করলা থেকে দূরেও থাকেন অনেকে।

পুষ্টিবিদরা বরাবরই সুস্থ থাকার জন্য করলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট আর অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল প্রপার্টি আছে।

করলা আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।নিয়মিত করলা খেলে রক্ত পরিশুদ্ধ থাকে

ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এক গ্লাস করলার রস খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন।

এই জুস আপনার শরীর থেকে সব টক্সিন বের করতে সাহায্য করবে, তাই ত্বক আর চুল হয়ে উঠবে ঝকঝকে উজ্জ্বল। বলিরেখা পড়বে না, দীর্ঘদিন তারুণ্য বজায় থাকবে।

করলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি পাওয়া যায়, জিঙ্ক আর বায়োটিনও থাকে অনেকটাই। ফলে আপনার চুল ক্রমশ শক্তিশালী ও মসৃণ হয়ে ওঠে৷ খুশকি কমে যায়,

চুলের ডগা ফাটে না আগের মতো। করলার রস আর দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগাতে পারেন।

করলা খেলে কি হয় জানেন

লেবু আর করলার রসের মিশ্রণও খুব কার্যকর। মাইল্ড কোনও শ্যাম্পু দিয়ে আধ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। যারা বছরের এই সময়টায় মূলত আবহাওয়ার কারণে ব্রণ,

চুলকানি বা ফোড়ার সমস্যায় ভোগেন তারাও নিয়মিত করলার রস খেয়ে দেখতে পারেন।

প্রচুর ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন থাকে বলে করলার রস চোখের জন্য বেশ উপকারী। ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই করলা রাখুন,

এর পলিপেপটাইড বি আপনার সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। ভিটামিন সি বাঁচাবে ত্বকের সমস্যা থেকে।

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তারা যত ইচ্ছে করলা খান। করলা এর মধ্যে প্রচুর ফাইবার থাকে,

কিন্তু কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম বলে ওজন বাড়ার আশঙ্কাও নেই।

করলা খাওয়া মাত্র শরীরে বিশেষ কিছু এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যার প্রভাবে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়তে সময় লাগে না।

করলায় থাকা মোমরোডিকা নামক একটি উপাদান লিভার ফেলিওর হওয়ার সম্ভাবনাকেও কমায়। 

স্মৃতিশক্তি কমে যায় ঝাল বেশি খেলে!

ঝাল খেলে স্মৃতিশক্তি কমে

ঝাল খেলে স্মৃতিশক্তি কমে , অনেকেরই পছন্দের তালিকার এক নম্বরে রয়েছে ঝাল জাতীয় খাবার। বাঙালির পাতে ঝাল খাবার না হলে তো একবেলাও চলে না।

কেউ কেউ আবার একটু বেশিই ঝালপ্রেমী। খাবারের পাতা আলাদা করে ঝাল আচার বা কাঁচা মরিচ খেতেও ভালোবাসেন অনেকে।

ঝাল রান্না খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। অনেকে আবার ঝাল রান্না পছন্দ না করলেও, খাবারের পাতে কাঁচা লঙ্কা খেতে ভালোবাসেন।

কিন্তু গবেষণা বলছে, অত্যন্ত ঝাল খাবার বা অতিরিক্ত লঙ্কা খাওয়ার অভ্যেস স্মৃতিলোপ ঘটাতে পারে।

প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে নিয়ে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে,

প্রতিদিন যাঁরা ৫০ গ্রাম লঙ্কা খান, তাঁদের স্মৃতিশক্তি হারানোর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়।

কিন্তু গবেষণা বলছে, অত্যন্ত ঝাল খাবার বা অতিরিক্ত মরিচ খাওয়ার অভ্যেস স্মৃতিলোপ ঘটাতে পারে।

প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে নিয়ে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, প্রতিদিন যারা ৫০ গ্রাম মরিচ খান,

তাদের স্মৃতিশক্তি হারানোর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যায়।

গবেষণায় উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৫ বছর ধরে যাদের টানা এই অভ্যাস রয়েছে, তাদের ৫৬ শতাংশ স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

অনেকেই মনে করেন, মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন আমাদের বুদ্ধি তুখোড় করে। কিন্তু আসলে তা নয়। অতিরিক্ত ক্যাপসাইসিন নার্ভের ব্যথা দূর করতে সক্ষম।

সে কারণেই হয়তো ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। অবশ্য হট সস খেলে সেটি হয় না।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। বেশি মরিচ খাওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে অ্যালঝাইমার্স রোগের সম্ভাবনাও দেখা দেয়।

তাই ঝাল খেতে যতই ভালোবাসেন, এবার থেকে একটু রয়ে-সয়ে খাবেন।